
"আয়কাত বাড়ির দুর্গা পুজো আনুমানিক ৮০০ থেকে ১০০০ বছরের পুরাতন। কোনও একসময় এই পুজো প্রতিমায় হত। কিন্তু বর্গী আক্রমণের পর থেকে ঘটে অথবা পটে হয়ে আসছে। বর্গী আক্রমণের সময় এই পটচিত্র রাজারা আয়কাতদের দিয়েছিলেন । আগে এই পট চিত্রের রূপ ছিল অন্যরকম। এখন যে রূপ তা হয়েছে ৪০ বছর আগে। মায়ের মুখের পরিবর্তন করে সোজা করা হয়েছে। আগে রাজ দরবারেও মা দুর্গার মত পটচিত্র ছিল। আয়কাত পরিবার মূলতঃ পারস্য দেশ থেকে এসেছিলেন। পরিবারটি পার্শী এবং আর্য। আয়কাত পরিবার কায়স্ত এবং এই পদবী রাজাদের দেওয়া। একসময় রাজার অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ হয়ে পড়েছিল। এই পরিবারটি তখন রাজাকে আয়ের উৎস দেখিয়েছিল। আয়ের উৎস ‘আয়’ এবং কায়েতের ‘কাত’ এর সমন্বয়ে “আয়কাত” হয়েছে। রাজারা সন্তুষ্ট হয়ে তাদের জমিদারি দিয়েছিলেন। রাজাদের অর্থনৈতিক বিষয়টি আয়কাত পরিবারটি দেখত। সেই সুবাদে পরিবারটি রাজাদের সঙ্গে খুবই ঘনিষ্ঠ ছিল। মায়ের পুজোর নিয়মাবলীঃ- ষষ্ঠীর দিন তিথি অনুযায়ী পুজো হয় নৈবিদ্য, ফল, ফুল, মিষ্টি, পান, ধূপ, ধূনো, প্রদীপ দিয়ে। সপ্তমীর দিন মাকে পোকাবাঁধ থেকে নিয়ে এসে বাড়িতে একটা আকাটা পুকুরে স্নান করিয়ে আটটি পদচিহ্ন এঁকে তার উপর আটটি পান সুপারি রাখা হয়। প্রথমে মায়ের বাম পা, পরে ডান পা পান সুপারির উপর রেখে মাকে মন্দিরে প্রবেশ করানো হয়। তারপর যথাযথ নিয়মে পুজো অর্চনা হয়। সন্ধ্যায় হয় সন্ধ্যা আরতি। এই পুজো নারায়ণ পুঁথি অনুযায়ী হত, বর্তমানে পুঁথিটি না পাওয়া যাওয়ায় কালিকাপুরান মতে হয়। সপ্তমীর দিন থেকে নবমীর দিন পর্যন্ত পঞ্চব্যঞ্জন সহযোগে মায়ের ভোগ নিবেদন করা হয়। বিশেষ ভোগ হিসেবে চ্যাঙ মাছের ঝোল দেওয়া হয়। এই ঝোলটি কাঁচকলা, কচু, ফুলকপি, বেগুন, আলু দিয়ে বানানো হয়। সপ্তমী থেকে নবমী পর্যন্ত প্রতিদিন মাকে সকালে চা-বিস্কুট নিবেদন করা হয়। এটি না দেওয়া হলে মায়ের ফুল পাওয়া যায় না। অষ্টমীর দিন ১০৮ টি পদ্মফুল ও সাথে ৬৪ টি থালাতে পান, সুপারি ও পাটি গুড় দিয়ে ৬৪ যোগিনীর পুজো হয় সন্ধিক্ষনের পুজোতে। দ্রৌন পুষ্প, চাঁপা, অপরাজিতা ও লালপদ্ম এই ফুলগুলি লাগে। দশমীর দিন মাকে সিঁদুর আলতা পরিয়ে সিঁদুর খেলা হয়। তারপর চিঁড়ে ভোগ নিবেদন করে মায়ের কলাবউ, ঘট বিসর্জন দিয়ে পট বাড়িতে নিয়ে এসে মন্দিরে রাখা হয়। যোগাযোগ- সূপর্ণা আয়কাত- ৯৩৩৯০ ৩৫০২৯ রূপা আয়কাত- ৭০০১৭ ৫৯৭১০"